বিভ্রান্তিতে রির্টানিং অফিসার কার্যালয়!

যশোর পৌরসভার নির্বাচন ॥ দোটানায় প্রার্থীরা

যশোর পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে খোদ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে কিনা সেবিষয়ে স্পষ্ট কিছুই বলতে পারছেন না। বরং তারা এখন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বুধবার রাত সাতটা পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি যশোরের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। তবে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বুধবারের সভায় যশোর পৌরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে ওই সভায় আলোচনা করা হয়েছে।
যশোর পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। বিভ্রান্তিতে রয়েছেন বিভিন্ন পদের প্রার্থীরাও। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটছে না। একটি পক্ষ বলছে নির্বাচন নির্ধারিত তারিখে হবে না। আবার আরেকটি পক্ষের দাবি, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা বলে গত ২০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। ২১ জানুয়ারি থেকে যথারীতি নির্বাচনী কাজ শুরু করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। মনোনয়নপত্র বিক্রি, জমা এবং যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন স্থগিত করতে হাইকোর্টে রিট হয়। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত রাখতে আদেশ দেন। ওইদিন রাতে আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মোহাম্মদ রাসেল চৌধুরী।
তিনি জানিয়েছিলেন,সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবিতে রিট হয় হাইকোর্টে। ওই রিটের শুনানি শেষে যশোর পৌরসভার নির্বাচন আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। তবে, নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খুব শিগগিরই আপিল করবে বলে জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মোহাম্মদ রাসেল চৌধুরী।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন স্থগিত করতে যে তিনজন রিট করেছিলেন তাদের দু’জন ইতিমধ্যে প্রত্যাহারের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। আরেকজনকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!
যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদালতে রোববার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ওই চেম্বারের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান তা মুলতবি করেন। বর্তমানে এই শুনানি নিয়মিত বিচারপতির আদালতে গেছে বলে জানিয়েছেন আরেকটি সূত্র। ওই শুনানি আজ বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতির আদালতে হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে, আরেকটি সূত্র জানিয়েছে নিয়মিত আদালতে শুনানি হতে সময় লেগে যেতে পারে। সেই পর্যন্ত হাই কোর্টের দেয়া স্থগিত আদেশ বহাল থাকবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। এই অবস্থায় নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবির। রিট হওয়ার পরও তিনি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রতীক পেয়ে প্রার্থীদের বেশিরভাগ প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন। এ কারণে বিভ্রান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
ভোটাররা বলছেন, একদিকে রিটে স্থগিত আদেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তাহলে আসলে হচ্ছেটা কী? ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে কিনা?
এসব বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমরা নিজেরাই বিভ্রান্তিতে আছি। এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। বিস্তারিত জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার অথবা নির্বাচন কমিশনে কথা বলেন।’
যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন,‘আমি খুলনায়। বিস্তারিত কিছুই জানিনা।’
রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবির বুধবার বিকেলে জানান,‘আমরা এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। আদালতের আদেশ নির্বাচন কমিশনে যেতে পারে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে।’
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরের দিন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। খসড়া ওই তালিকা অনুযায়ী,যশোর পৌরসভায় গত পাঁচ বছরে ভোটার বেড়েছে ১৫ হাজার পাঁচশ’ ৭৭ জন।


বিস্তারিত পড়ুন::